টনসিল রোগীর নিষিদ্ধ খাবার

টনসিল এর ব্যথায় যা খেলে আরাম পাবেন

টনসিল এর ব্যথায় যা খেলে আরাম পাবেনঃ

টনসিলাইটিস এর উৎপত্তি মানুষের গলায় অবস্থিত নির্দিষ্ট লিম্ফনোডের প্রদাহ থেকে। প্রচলিত সাধারণ ধারণায় ঠান্ডা জাতীয় খাবারেই টন্সিলের প্রদাহ হয়ে থাকে। তবে টনসিল হলে কি খাওয়া যাবে কি যাবেনা এ সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানিনা বললেই চলে।

টনসিলের মূল উপসর্গ হল গলাব্যথা ও খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া। আক্রান্ত ব্যক্তির শক্ত খাবার খেতে গেলে ব্যথা যেমন বেড়ে যায় তেমনি গরম পানি বা চা তার গলাব্যথা উপশম করে। তাই টনসিল হলে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। আজকে আমরা জানব টনসিল রোগিদের কি খাওয়া উচিত এবং কি খাওয়া উচিত নয়।ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

টনসিল হলে যেসব খাবার রোগীর জন্য প্রয়োজন
টনসিল হলে যেসব খাবার রোগীর জন্য প্রয়োজন

টনসিল হলে যেসব খাবার রোগীর জন্য প্রয়োজন:

টনসিলের রোগী গলাব্যথায় খুব কষ্ট পান। একইসাথে খাবার গিলতেও। তাই এ রোগীর জন্য নরম বা তরল খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। নিম্নে কিছু উদাহরণ দিচ্ছি।

। কুসুম গরম পানি বা মধু দিয়ে আদা চা: এ সময় গরম পানিয় বা চা গলাব্যথায় রোগিকে খুব আরাম দেয়। পানি পান করার সময় হালকা গরম করে খাওয়া ভাল। চা বিশেষ করে আদা, লং, লেবুর রস দিয়ে তৈরি ভেষজ চা সাথে একটু মধু ঠান্ডাজনিত যেকোন সমস্যার জন্য অত্যন্ত উপকারি। দুধ চা এর পরিবর্তে রোগীর জন্য গরম গরম গ্রীন টিই বেশি উপকারী।

নুন জল দিয়ে গার্গল: গরম পানিতে লবন দিয়ে কুলি বা গার্গল জীবানু ধবংসে খুব কার্যকরী। এক্ষেত্রে টনসিল রোগী গলাব্যথায় খুব আরাম পান এবং গলাব্যখাও কমে। ঠান্ডাজনিত যেকোনো কারনে কাশি বা ব্যথাও উপশম হয় নুন জল গার্গলে।

৩। স্যুপ জাতীয় ও নরম খাবার খাওয়া: খাবার গিলতে যেন কষ্ট না হয় সেজন্যে টনসিল রোগীর জন্য নরম খাবার আবশ্যক। এক্ষেত্রে জাউভাতের সাথে অল্প মশলা যুক্ত নরম করে রান্না করা তরকারি দিতে হবে। গোস্ত না খেতে পারলে গরম গরম চিকেন স্যুপ দেয়া যেতে পারে। স্যুপ খুবই স্বাস্থ্যকর খাবার, শক্তিবর্ধক। দরকার হলে দুই/তিন বেলাই স্যুপ খাওয়ানো যায়।

৪। হলুদ ও দুধ: কাচা হলুদের উপকারিতার কথা অনেকেই জানেন না। গরম দুধে একটুখানি কাচা হলুদ বাটা মিশিয়ে খেলে গলাব্যথা উপশম হয়। এছাড়াও হলুদ ঠান্ডাজনিত যেকোন সমস্যার ক্ষেত্রে উপকার দেয়। হলুদে আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিইনফ্লেমেটরি।। হলুদের চা করেও খাওয়া যেতে পারে।

৫। টক দই: টক দই এ আছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক। এসময় দুধ বা দুধ জাতীয় খাবারের বদলে টকদই খাওয়া খুব উপকার।

আরো পড়ুনঃ

হার্টের রোগীর খাবার তালিকা 

ডেঙ্গু রোগীর খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়?

টনসিল হলে কি কি খাওয়া উচিত নয়
টনসিল হলে কি কি খাওয়া উচিত নয়

টনসিল হলে কি কি খাওয়া উচিত নয়ঃ

টনসিল ছোটবড় সবার জন্য একটি পীড়াদায়ক রোগ, সেকারণে এই রোগীর খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া জরুরি। টনসিল রোগির কিছু খাবার একদমই বর্জন করতে হয়। যেমন:

* ঠান্ডা খাবার ও ঠান্ডা পানিয় টনসিলের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়। গলাব্যথাসহ গলা ফুলে যায়। আর যেহেতু ঠান্ডা থেকেই টনসিলের সমস্যা হয়ে থাকে তাই এসময়ে ঠান্ডা একেবারেই বর্জনিয়।

* অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার, তেলে ভাজা খাবার বর্জন করতে হবে। শুধু টনসিলের জন্য নয়, বেশি তেল মশলা দেয়া খাবার শরীরের জন্য সবদিক হতেই অস্বাস্থ্যকর।

* টক জাতীয় খাবার বা ফল: টক খাবার গলাব্যথা বাড়ায়। টক ফল যেমন, কমলা, স্ট্রবেরি, বড়ই,আমড়া, টমেটো কিংবা আচার, সস ইত্যাদি খাওয়া যাবেনা।

* কাঁচা খাবার যেমন, সালাদ, ফল, সবজি, মাশরুম, কাচা পেয়াঁজ, রসুন, ফুলকপি, ব্রকোলি ইত্যাদি খাওয়া উচিৎ নয়। কারন এগুলো শক্ত এবং হজম হতেও প্রচুর সময় নেয়।

*  এসিডযুক্ত খাবার যেমন, লেবু. আংগুর, কমলা, আনারস, কামরাংগা, সোডা, কফি ইত্যাদি।

* অধিক কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার, সাদা ভাত, রুটি, সাদা চিনি, মিষ্টি, সাদা পাস্ত, রান্না করা গাজর, শুকনো ফল ইত্যাদি খাওয়া অনুচিত।

* ফাস্ট ফুড বা জাংক ফুড খাওয়া যাবেনা অর্থাৎ ফ্রাইভ চিকেন, বার্গার, পিজা, চিপ্স, চানাচুর, ফুচকা, সফট ডিংকস ইত্যাদি। এসব খাবারে প্রচুর লবন ও চিনি থাকে সেই সাথে অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা হয়ে থাকে।

এছাড়া হজমে অসুবিধা হয় এমন কোন খাবার টনসিল রোগিদের বুঝে শুনে খাওয়া উচিত। টনসিল রোগীর খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতনতা ও সর্বোচ্চ যত্নের প্রয়োজন। কারন গলাব্যথার কারনে রোগী খেতে পারেন না। দ্রুত আরোগ্যের জন্য ঘরে রান্না করা পুষ্টিকর খাবারের প্রতিই নির্ভর করুন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে যা খেতে চায় নরম করে বানিয়ে দিন। শুধু খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক না হয়।

তামামা মুহসিনা

তামামা মুহসিনা

ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার নেশা আমাকে লিখালিখির অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। পড়াশোনার বাইরেও প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস ছিল, এখনো আছে। আমি অনার্স ও মাস্টার্স করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে। কিছুদিন শিক্ষকতা করলেও এবার লিখালিখিতে মনোনিবেশ করেছি। শিক্ষাবিষয়ক ও তথ্যসমৃদ্ধ লিখা লিখতে ভাল লাগে। পছন্দের বিষয়-শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা কালচার, স্বাস্থ্য সচেতনতা, মা ও শিশুর যত্ন, ইসলামের সৌন্দর্য ইত্যাদি।

Leave a Comment